Posts

অধ্যবসায়

Image
লেখক - মনসুর আলি          বিনোদ কম্পিউটার চালাতে পারে না। খুব আফসোস ওর। ক্লাস নাইনে পড়ে। বাবার পয়সা নেই। তাই কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হতে পারে না।      বিনোদ একটা বুদ্ধি বার করল। সাজিদদের কম্পিউটার আছে। সাজিদ চালায়, সাজিদের বোন চালায়। ও বুদ্ধি করে সাজিদের কাছে গেল। সাজিদ ওরই ক্লাসে পড়ে।      গিয়ে বলল, “সাজিদ, আমার খুব ইচ্ছে কম্পিউটার শিখব।”     সাজিদ বলল, “কোর্স কর।”     বিনোদ বলল, “অত টাকা নেই। কী করে করব। তুই আমাকে শেখাবি?”     সাজিদ রাজি হয়ে গেল। সেই থেকে রোজ বিকালে আধঘন্টা করে সাজিদের কাছে বিনোদ কম্পিউটার শেখে সাজিদের বাড়িতে গিয়ে। টাইপ প্র‍্যাক্টিস করে।     এইভাবে শিখতে-শিখতে তিন মাস কাটল। বিনোদ এখন Word, Excel, PowerPoint, Tally কতকিছু শিখে নিয়েছে। এখন ও কম্পিউটারে দারুণ এক্সপার্ট।      গতকাল ওর বাবা ওকে বললেন, “বিনোদ, কিছুক্ষণ পর একটা সারপ্রাইজ পাবি।”     বিনোদ বলল, “কী বাবা, কেক কিনে দেবে?”     ওর বাবা কিছু বলতে যাবেন অমনি বাড়ির পিছনে ট্যাক্সির হর্ন বাজ...

ধৈর্য ছাড়া অন্য রাস্তা নেই

Image
লেখক - মনসুর আলি      বিপুল একটা ব্যবসা করবে। বিপুল এমনিতে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। মাস গেলে যা পায় খেয়েপরে হাতে কিছু থেকেও যায়। এখন ও উতলা হয়ে পড়েছে, আরও ইনকাম চাই, একটা ছোটমতো ব্যবসা করতে হবে। ভালো কথা। কিন্তু ব্যবসা করতে হলে এই মুহূর্তে মূলধনও তো কিছুটা লাগবে।      কে দেবে টাকা? হাতে তো ততটা টাকা নেই। বউয়ের কাছে হাত পাতল। অনামিকা বলল, “আমার কাছে মেরেকেটে পাঁচটা হাজার টাকা আছে। সবটা যদি দিয়ে দেই তো আমার হাত একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আর পাঁচ হাজার টাকায় তোমার ওই ইমিটেশনের ব্যবসা হবে না। তুমি তো বলেছ কম করে পঁচিশ হাজার টাকা তোমার লাগবে।”     বিপুল “ধুত্তোর” বলে নিজের হাঁটুতে একটা হালকা কিল মেরে মাথা নিচু করে।      অনামিকা বলল, “আর ছয়টা মাস ওয়েট করো না। তুমি তো বলেছ ছয় মাস গেলেই ও টাকা তোমার জোগাড় হয়ে যাবে। মাইনে থেকে ছয় মাস কিছু কিছু করে রাখলেই হল। ধৈর্য ধরো গো ধৈর্য ধরো। তুমিই তো আমাকে শিখিয়েছ ধৈর্য তেতো, কিন্তু এর ফল মিষ্টি। তুমি তাহলে এমন করছ কেন। একটা ব্যবসা ভালো করে ফাঁদতে পারলে তোমার চিন্তা থাকবে না। বাড়িতে মাল থাকবে। লো...

ঝগড়ার অবসান

Image
লেখক - মনসুর আলি      সাগ্নিকের বাড়িতে ভীষণ ঝগড়া। বউয়ের সাথে। এটা ওটা সেটা নিয়ে। সকালে ঝগড়া, বিকালে ঝগড়া, সন্ধেয় ঝগড়া, রাতে ঝগড়া। কখন ঝগড়া নেই।     ভালো মুশকিল হয়েছে ওর বিয়ে করে। বিয়ের আগে দিব্যি ছিল। বিয়ের পরই যত ঝামেলা সৃষ্টি।      একটা বিষয় সাগ্নিক জানে। কত মনীষী বলে গেছেন। ইউটিউবে কত ভিডিও দেখেছে সাগ্নিক ওই বিষয়ে।      বিষয়টা হচ্ছে— চুপ থাকলে জীবনের ষাট শতাংশের বেশি সমস্যার সমাধান আপনা থেকেই হয়ে যায়।     আজ থেকে সাগ্নিক স্থির করল— ও স্ত্রীকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করবে না, সবসময় চুপ থাকবে। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলবে না।      যেমন চিন্তা তেমন কাজ।     এখন সাগ্নিক দেখছে ওর স্ত্রী ওর কাছে এসে মন খুলে কত মনের কথা বলছে। সাগ্নিকের মতামত জানতে চাইছে। সাগ্নিক অল্প অল্প উত্তর দিচ্ছে।     সাগ্নিক এভাবে এক সপ্তাহ চলল। সত্যিই ওর সংসারে আর ঝগড়া তেমন হচ্ছে না।      সাগ্নিক বুঝে গেল— নীরবতাই পারে শান্তি আনয়ন করতে।     সাগ্নিকের সংসারে আর আগের মতো ঝগড়া হয় না। বার্তা - নীরবতা শান্তি আনে।...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ৩

Image
  লেখক - মনসুর আলি      ছেলেটাকে নিয়ে মিমি সোজা চলে গেল কিছুটা দূরের একটা মেন্টাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে। সেটার নাম মনরহস্য।      সেখানে গিয়ে সবকিছু জানাল রিসেপশনিস্টকে। রিসেপশনিস্ট মেয়েটি বলল, “আপনি কী বলছেন, ওকে ভর্তি নেব না আমরা? আমরা তো ওইজন্যই বসে আছি। ওকে ভর্তি করিয়ে দিন এখানে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টি চালিত। এখানে খরচ কিছু নেই। ওর যেহেতু অভিভাবকের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না সেইহেতু আপনিই ওর অভিভাবকের ভূমিকাটা পালন করবেন। মাঝেসাঝে এই ধরুন সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন এসে ওর খোঁজটা নিয়ে যাবেন। কী, পারবেন না?”     ছেলেটার নাম জানা গেল না। শুধু ছেলেটার মুখ দেখে মিমির কেমন যেন একটা মায়া হতে লাগল। ও চোখের কোণটা ওড়নার প্রান্ত দিয়ে একটু মুছে নিয়ে বলল, “পারব। নিশ্চয়ই পারব। আমি মাঝেমধ্যে এসে ওকে দেখে যাব।”      মিমি ওকে রেখে বাড়ি চলে এল। মামাবাড়ি আর সেদিন যাওয়া হল না। মামি ফোন করল, “কীরে এলি না যে?”     মামিকে সব বলল মিমি। মামি শুনে বলল, “নাঃ। পুণ্যের কাজ করলি রে তুই একটা। ছেলেটা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে কতই না ভালো হবে...

প্রকৃতি

Image
লেখক - মনসুর আলি      অবিনাশবাবু ইতিহাসের শিক্ষক। হাই স্কুলে পড়ান। ট্রেনে করে স্কুল থেকে ফিরছেন। ধপধপি স্টেশন এল। অবিনাশবাবু প্ল্যাটফর্মের পানে চাইলেন। আহা! কী ছায়াময় নির্জন প্ল্যাটফর্ম। অবিনাশবাবু নামবেন আর একটা স্টেশন পর।     কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মটার ছবি অবিনাশবাবুকে খুব জড়িয়ে ফেলল এক আজব মায়ার বাঁধনে। নেমে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটিয়ে গেলে হয় না?     মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। বাড়ি যাবেন নাহয় নির্দিষ্ট সময়ের আধ বা এক ঘন্টা পর। নেমে পড়লেন অবিনাশবাবু।      গিয়ে বসলেন সিমেন্টের সিটে। ট্রেন সামন দিয়ে চলে গেল। তাকিয়ে দেখলেন, একঝাঁক বক নীলসাদা আকাশের বুক চিরে উড়ে গেল। তারপর ঘটিগরমওলা টিংটিং করে ঘণ্টি বাজিয়ে গেল। তিনি ডাকলেন তাকে। দশটাকার ঘটিগরম কিনে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে লাগলেন।      সামনের বনভূমি যেটা রেললাইনের ওপারে, সেটা কী নিবিড় সবুজ! কত সুন্দর লাগছে।     আজ বউ হয়ত বকাঝকা করবে। বলবে, “বুড়ো কোথাকার। স্টেশনে বসে প্রকৃতি দেখা হচ্ছে? এদিকে বাড়ি ফিরতে লেট হবে জানো না?”     বউ যা বলে বলুক। দেরি হবে হোক। আজ...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ২

Image
  লেখক - মনসুর আলি      জটলার কাছে গিয়ে মিমি একজন লোককে বলল, “দাদা, এখানে এত লোক কেন? কী হয়েছে?”     লোকটি জবাব দিল, “ওই যে ছেলেটা দেখছেন ও একটা পাগল। একটা বাইক এসে ওর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। ঘেন্নায় ওর কাছে যাচ্ছে না।”     ছেলেটা শুধু “ও মাগো, বাবা গো” করে চিৎকার করে পা-টা ধরে কেঁদে যাচ্ছে।      মিমি শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করল, “উফ! কী আশ্চর্য! এত লোক, কেউ এগিয়ে আসছে না? মানুষ এখানে আছে কেউ? আমার তো মনে হচ্ছে না।”     তারপর সামনের লোকগুলোকে ঠেলে ভিড়ের মাঝখানে ঢোকার চেষ্টা করতে লাগল মিমি। মুখে শুধু বলতে লাগল, “এই যে সরুন তো দেখি। সরুন সরুন। চলুন দেখি। সাইড দিন। এত মানুষ। কেউ আসছে না। কী আছে ঘেন্নার। ছেলেটার গায়ে ময়লা পোশাক। এছাড়া আর কী আছে ওর গায়ে। কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।”     তারপর রিকশাওয়ালাকে ডাকল, “কাকা, এসো তো। ধরো ছেলেটাকে। রিকশায় তুলি। হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে।”     মিমি রিকশাওয়ালাকে বলল, “রিকশার চেন কেটে গেছে। চলবে না। চালাতে হবে না। টেনে নিয়ে চলো কাকা।”     রি...

শব্দ

Image
  লেখক - মনসুর আলি      রাত ১২টা। সাহিনের ঘুম আসছে না। আব্বা, মা পাশেই শুয়ে আছে। তবুও ভয় হচ্ছে। জানলার ওপাশে খড়খড় খড়খড় শব্দ। তাহলে কি চোর এসেছে?     শীতকাল। এসময় সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। চোরেরা সেই সুযোগে চুরি করতে বার হয়।      উঠোনে আব্বার সাইকেল রয়েছে। পাঁচিল দেওয়া বাড়ি ছ' বছরের ছেলে সাহিনদের। চোর কি তাহলে পাঁচিল টপকে ঢুকল!     আবার খড়খড় খড়খড় শব্দ। চোর কি তাহলে জানলায় ওরকম আওয়াজ করছে। বাড়ির লোকেরা জেগে আছে কি না দেখছে?      সাহিনের খুব ভয় করতে শুরু করে। ও আব্বাকে আর মাকে ডাকে।     “ও আব্বা, ও মা, ওঠো তাড়াতাড়ি। চোর এসছে। জানলার বাইরে খড়খড় খড়খড় শব্দ করছে।”     সাহিনের আব্বা রহিমবাবু খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা করলেন আওয়াজটা। শুনে ফিসফিস করে সাহিনের মা রফিজাকে বললেন, “হ্যাঁ তাই তো। ভালো করে শোনো...”     রফিজা কান পেতে ভালো করে শুনলেন। তারপর ওপরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “ওই দ্যাখো চোর ওপরে।”     রহিমবাবু আর সাহিন ওপরে তাকিয়ে দেখল একটা বড়সড় টিকটিকি জানলার পাশের আলমারির ওপর থা...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান - পর্ব - ১

Image
খাঁটি প্রেমের আখ্যান  পর্ব - ১ লেখক - মনসুর আলি         কড়কড় কড়কড়...      কী হল?     “যাঃ, দিদিমণি রিকশার চেন কাটি গ্যাসে। কী করি এখন? চেন সারাতি গ্যালি তো গ্যারেজ খুঁজতি হবে। তুমি দিদিমণি অন্য রিকশো ধরে ল্যাও। কিছু মনে করোনি। এ আমার দোষ লয়৷ আমার কপালের দোষ,” ষাট পার হওয়া বৃদ্ধ রিকশাচালক রিকশা থেকে নেমে কাঁধের গামছাটা ডান হাতে নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল। সারা শরীর দিয়ে তার টপটপ করে নোনা জল ঝরছে।      মিমি দশ টাকার একটা পুরনো নোট আগিয়ে দিয়ে রিকশার ওপরে বসে থেকে বলল, “ঠিক আছে। আমি অন্য রিকশা দেখে নিচ্ছি। তোমার ভাড়া ছিল কুড়ি টাকা। তুমি তো আমাকে অনেকটাই আনলে। এই দশ টাকাটা নাও।”     রিকশাওয়ালা টাকাটা নিয়ে বলল, “তা দিদিমণি কোথায় যাওয়া হবে? মানে কদ্দূর? এই গরমের দিনে দুপুর হয়ে গ্যাচে। শুনশান রাস্তা। একটা গাড়ি নেই। তুমি আমার মেয়ের মতো। তাছাড়া এই পথে অনেক কাণ্ড ঘটে গ্যাচে আগে। চুরি, ছিনতাই, আরও কত কী। সব তোমারে বলতি পারব না। তোমারে একা ছাড়তি আমার বড্ড চিন্তা হচ্চে।”     মিমি উত্তর দিল, “বাপজান, তোমার এই মেয়েটা ...

মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং

Image
লেখক - মনসুর আলি     রিমি বাবার হাত ধরে প্ল্যাটফর্ম ধরে হেঁটে যাচ্ছে। ওর মা জয়ী পাশে পাশে হাঁটছে। মল্লিকপুর রেলস্টেশনে এখন ভিড় কম। দুপুরবেলা। তার ওপর রবিবার। অফিসযাত্রা নেই মানুষের।      জয়ী অবীনকে বলল, “এই দ্যাখো একটু বসে টিফিনটা খেয়ে নিলে হয় না। যাব তো অনেক দূর। বাসে আধঘন্টা।”     অবীন একটু দূরের একটা সিমেন্টের বেঞ্চের দিকে আঙুল বাড়িয়ে বলল, “চলো ওখানে বসি।”     জয়ী নাঁক সিঁটকোলো, “উঁহ, ওখানে ওই পাগল-পাগল ছেলেটা বসে আছে। আমি ওখানে বসব না।”     অবীন বলল, “কী বললে, পাগল ছেলে?”     জয়ী বলল, “হ্যাঁ পাগলই তো। দেখোনা কেমন মাথার চুল, পায়ে চটি, কাঁধে ঝোলা, মুখে দাড়ি।”     অবীন মুচকি হেসে বলল, “এসো পরিচয় করিয়ে দিই।”     “ অ্যাঁ- অ্যা- অ্যা---,” জয়ী আশ্চর্য।      অবীন এগিয়ে এল। বলল, “হাউ আর ইউ মিস্টার গাঙ্গুলি?”     “অল ইজ ওয়েল।  অ্যান্ড হোয়াটস  অ্যাবাউট ইউ অবীনদা?” ছেলেটির স্মার্ট জবাব।     অবীন জয়ীকে বলল, “হি ইজ নিশীথ গাঙ্গুলি। আমাদের পাশের পাড়ায় থাকে। আই আই টি...

কথার যাদু

Image
  লেখক - মনসুর আলি      অফিস যাচ্ছি। ট্রেনে উঠেছি। সামনে গঙ্গাসাগর মেলা। ভীষণ গুঁতোগুঁতি। কষ্ট করে যেতে হচ্ছে। লুঙ্গি ফতুয়া পরা এক বৃদ্ধ তাকে চেপে দাঁড়িয়ে থাকা এক মোটামতো ভদ্রলোককে বললেন, “অত চাপছেন কেন? সরে দাঁড়াতে পারেন না?”      ভদ্রলোক রেগে আগুন। বৃদ্ধকে বললেন, “চাপ সহ্য করতে পারবেন না তো ভিতরে যান। গেটের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন?”     দেখলাম আমার সামনে একটু ডাইনে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভদ্রলোক তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে ঝাড় দিচ্ছে। আমি লক্ষ করতে লাগলাম।      ভদ্রলোক বৃদ্ধকে  জিজ্ঞাসা করলেন, “নামবেন কোথায়?”     বৃদ্ধ উত্তর করল, “জয়নগর।”     “জয়নগর এখন অনেক বাকি। সবে সূর্য্যপুর। তা এত সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ভিতরে যান।”     বৃদ্ধ চুপ। বোধহয় ভয় পেয়ে।     ওই ভদ্রলোকই আমাকে চেপে দাঁড়িয়ে আছেন। ওঁর পিঠ আমার বুকের ওপর জোরসে চেপে বদ্ধ হয়ে রয়েছে। মোটা মানুষ। আমি বললাম, “দাদা নামার সময় একটু সাইড দেবেন।”      আশ্চর্য! ভদ্রলোক তড়িঘড়ি সরে যেতে লাগলেন। আমি হেসে বললাম, “না না, এখ...

অবলম্বন

Image
লেখক - মনসুর আলি      অফিস থেকে ফিরছে সমীর। লক্ষ্মীকান্তপুর ট্রেনে বড্ড ভিড়। গাদাগাদি অবস্থা একেবারে। সমীর গেটের কাছে কামরার দেয়ালে চেপে গেছে একেবারে। লোকেদের মধ্যে  ‘এই দাদা চাপবেন না’, ‘ঠিক হয়ে দাঁড়ান’, ‘আপনি যে গায়ের ওপর এসে পড়ছেন’ ইত্যাদি নানারকম বিরক্তিকর উক্তি শ্রুতিগোচর হয়ে চলেছে মাঝেমধ্যে।      হঠাৎ সমীরের নজরে একটা ছোট্ট দৃশ্য ধরা পড়ল। প্যান্ট-শার্ট পরা, জামা ইন করা, পায়ে স্যান্ডেল এক বৃদ্ধ মানুষ ওই ভিড়ে ওপরের হ্যাণ্ডস্ট্র‍্যাপ শক্ত করে ধরে একেবারে শক্ত চিবুকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বয়স মনে হবে পঁচাত্তর পার। আর ওঁর বৃদ্ধা স্ত্রী ওঁঁকে ধরে দাঁড়িয়ে। মাঝে মাঝে টলমল করছেন। বৃদ্ধ মানুষটি স্ত্রীকে বললেন, ‘আমাকে শক্ত করে ধরে থাকো।’     এই বয়সে অন্যের অবলম্বন হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যার নিজেরই অবলম্বনের প্রয়োজন।      সমীর দুই প্রবীণ জুটির দিকে তাকিয়ে রইল...     কতকিছু ওর মনে হতে লাগল! বার্তা - মনের জোর বড় জোর। Image Source : Pixabay আরও পড়ুন : গল্প - লেখার প্রয়োজন https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_4.html গল্প -...

লেখার প্রয়োজন

Image
লেখক - মনসুর আলি       অমিতের মন ভালো নেই। বই পড়তে ইচ্ছে করছে না। পরলোকগত বাবার একটা কথা  মনে পড়ছে এই সময়। বাবা বলতেন, “অমিত, যখন মন খারাপ লাগবে মনের কথাগুলো একটা কাগজে লিখবি। দেখবি মন পরিষ্কার হয়ে যাবে।”     অমিত বিছানার পাশে পড়ে থাকা ডায়েরি আর পেনটা তুলে নিল। লেখা শুরু করল আজ ওর মন খারাপ, কেন খারাপ, সারাদিনে কী কী হয়েছে ওর সাথে, কারা খারাপ ব্যবহার করেছে ওর সাথে, যার জন্য ওর মন ভালো নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। এক পৃষ্ঠা ও লিখে ফেলল। তারপর ডায়েরি আর পেনটা পাশে রেখে চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।     এখন ও অনুভব করছে ওর মনটা হালকা হয়ে গেছে। একদম ক্লিয়ার হয়ে গেছে। মনের মধ্যে যেন শান্তির মৃদু মৃদু বাতাস বইতে লাগল।     আজ ও বুঝল বাবা ঠিকই বলেছিলেন। বার্তা - লিখলে মন ভালো হয়ে যায়। Image Source : Pixabay আরও পড়ুন - গল্প: ব্যথা নিষ্কাশন  https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_22.html গল্প: ত্যাগ https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_16.html গল্প: মোবাইলে মুশকিল  https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post.html

বাচ্চার জেদ

Image
লেখক - মনসুর আলি      রমেন স্কুটিতে করে ওর তিন বছরের মেয়ে শিমুলকে নিয়ে বাজারে গেছিল। মেয়েকে একটা ফ্রক কিনে দেবে। পুরাতন বাজারে হাটে যাবার পথের আগে কাপড়ের একটা মার্কেট পড়ে।     মার্কেটে ঢোকার আগে বাবা-মেয়ে এক গ্লাস করে আখের রস খাবে বলে রসের দোকানের সামনে দাঁড়াল। রস খেয়ে সবে স্কুটিতে পিক আপ দিয়েছে ঠিক সেই সময়ে শিমুল পাশের লজেন্সের দোকানে লজেন্স ভরা বেশ কিছু বয়েম দোকানের সামনে সাজানো দেখল। বাবাকে বলল, ‘বাবা, লজেন্স কিনে দাও।’     রমেন দোকানীকে বলল, ‘দাদা লজেন্স দিন তো ক'টা।’ মেয়েকে বলল, ‘ক'টা নিবি?’ শিমুল বলল, ‘দশটা।’ রমেন দোকানীকে বলল, ‘দশটা দিন।’      দোকানের মধ্যে এক বয়স্ক মানুষ বসে পান চিবোচ্ছিলেন। শিমুলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘দশটা লজেন্স মা?’     রমেন বলল, ‘আর বলবেন না, যা চাইবে দিতে হবে।’     ব্যক্তিটি বললেন, ‘না। ওরকম করবেন না। যা চাইবে সব দেবেন না। এরকম চলতে থাকলে এখন ও ছোট আছে আপনি সব দিচ্ছেন, একসময় ও বড় হবে, তখন ওর চাহিদা বাড়বে, যা চাইবে সব দিতে পারবেন না আপনি। আমার মেয়ে ক্লাস টেনে পড়ে, সাইকেল চেয়েছে, আমি বলেছি ...

লোকে কী ভাববে

Image
 লেখক - মনসুর আলি        মতিন ইদানীং একটা ভীষণ সমস্যায় ভুগছে। যে কাজই করতে চাইছে, আগে থেকে একটা চিন্তা মাথায় চলে আসছে— লোকে কী ভাববে। ওর বাবা ওকে বলে বলে হয়রান যে, লোকে কিছুই ভাবে না। তা সত্ত্বেও সে এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারছে না— লোকে কী ভাববে।     এবার ওর বাবা এক মনোবিদের কাছে ওকে নিয়ে গেলেন। সাইকিয়াট্রিস্ট আর কেউ না। পাশের বাড়িত অনিক চক্রবর্তী। সে সাইকোলজি নিয়ে পড়ে এখন একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চাকরিরত।     ঘরের মানুষের কথায় কাজ হল না। এবার দেখা যাক বাইরের লোকের কথায় কাজ হয় কি না। মানুষ যাকে খুব কাছ থেকে পায় তাকে গুরুত্ব দেয় না।     অনিকের বাড়ি যেতে অনিকের মা চা দিয়ে মতিন আর ওর বাবাকে আপ্যায়ন করলেন। এবার অনিকের স্টাডিরুমে বসে চিকিৎসা শুরু হল। প্রথমেই অনিক বলল, “আমি একটা জিনিসই বলব। সেটা যদি মতিন তুমি বিশ্বাস করতে পারো তাহলে তোমার রোগ নিমেষে সেরে যাব। সেটা হল, লোকে ভাবে। অবশ্যই ভাবে। তবে এক বা দু সেকেন্ডের জন্য। আর তুমি ভাবো এক বা দু ঘন্টার জন্য অথবা কখনও কখনও এক বা দু দিন, আবার কখনও এক বা দু সপ্তাহ বা এক বা কয়েক বছরের...

কিছু কথা, কিছু ব্যথা

Image
লেখক - মনসুর আলি        মলয় আজকে অফিসে যাবার জন্য অটোতে উঠল। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার রেলস্টেশন। অটোয় উঠে চুপটি করে বসল। কিছুটা গিয়ে প্যাসেঞ্জার নেবে বলে অটো থামল।     সবুজ চুড়িদার পরে একটি মেয়ে উঠল।      মলয়ের টনক নড়ে গেল। আরে, এ যে পাপিয়া! এখনও সেইরকম তন্বী, সুন্দরী হয়ে আছে। কে বলবে একত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেছে।      মলয়কে দেখে হাসল পাপিয়া। মলয় বলল, “কেমন আছ?”     পাপিয়া বলল, “ভালো থাকি কী করে? তোমার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সেই দিন থেকে আমার কপালে আগুন ধরে গেল। যাকগে, সে তো তুমি ইচ্ছে করে করোনি। তোমার বাবাই এর পেছনে ছিলেন। আমরা তোমাদের মতো তো উচ্চবিত্ত ঘরের লোক নই, তাই আমি মেনে নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ইচ্ছে করলে তোমার বাবার সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দিতে পারতাম। শুধু একটা ভালো মেয়ের কথা চিন্তা করে তোমাদের পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। ওই অপরূপাই একদিন আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম ওকে এতদিন পর একটা গিফট দেবার সুযোগ এসেছে। আর সেই গিফটটা ছিলে তুমি। আমি তোমাকে ওর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলাম।”     “...

অমনোযোগী ছাত্র

Image
লেখক - মনসুর আলি     কমল মাস্টারমশাইকে বলল, “আমি পড়ায় মন বসাতে পারছি না। পড়ার সময় রাজ্যের চিন্তা মাথায় চলে আসছে। রেজাল্ট ভালো করতে পারব না বোধহয়... ”     ওর মা পাশে কিচেনে রান্না করছিল। বলল, “হ্যাঁরে সবে ক্লাস সেভেন। এর মধ্যে এরকম মানসিক সমস্যা দেখা হলে পরবর্তীকালে লেখাপড়ায় এগোবি কী করে? স্যার আপনি বুঝুন কী করবেন। ওকে যে ডাক্তার দেখাতে হবে মনে হয়।”     মাস্টারমশাই বললেন, “বউদি, আপনার কোনও চিন্তা নেই। ডাক্তারের কাছে যেতে লাগবে না। আমি ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।” তারপর কমলের দিকে চেয়ে মাস্টারমশাই বললেন, “আচ্ছা কমল, তুই আমায় শুধু বল কীসের কীসের চিন্তা এসে তোর মাথায় ঢোকে তুই যখন পড়তে বসিস?”      কমল বলল, “স্কুলে কী কী হয়েছে, খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে কী হয়েছে, কে কী বলেছে, কেন বলেছে এইসব নানান জিনিস স্যার।”     মাস্টারমশাই বললেন, “আমি তোকে একটা ফর্মুলা বলে দেব। সেই একটা ফর্মুলাতেই তোর এই রোগ একেবারে দূর হয়ে যাবে। শুনবি?”     কমল বলল, “শুনব না মানে স্যার? আপনি আগে বলুন। খুব শুনব। আমার যা সমস্যা হচ্ছে ইদানীং!”     মাস্টারম...

ব্যথা নিষ্কাশন

Image
লেখক - মনসুর আলি     আজ আমার মনটা বিশেষ কারণে ভারাক্রান্ত। কী কারণে ভারাক্রান্ত তা এখানে উল্লেখ করতে চাই না। যদি আউটলাইন দিতে বলেন, তাহলে বলতে পারি একান্ত ব্যক্তিগত। সংসারী মানুষের মন এক এক সময় এক এক রকম হয়ে যায়, কেননা সংসারে আছে নানান ধরনের, নানান তীব্রতার ঘাত ও প্রতিঘাত। আমি কেবল এটুকুই বলতে পারি আমার মনের অবস্থা ভালো না।     মন খারাপ থাকলে কি কিছু ভালো লাগে। বই পড়া, গান শোনা, গল্প করা, খাবার খাওয়া— কিচ্ছু ভালো লাগে না। আমি যেহেতু শিক্ষিত মানুষ, তাই আমি সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকাটা পছন্দ করি না। ভাবতে লাগলাম মনের এ তীব্র বেদনা কীভাবে মন থেকে বার করে দিয়ে একটু হালকা হওয়া যায়।     আব্বা বেঁচে থাকতে আমায় প্রায়শই বলতেন, ‘যখন মন খারাপ থাকবে, মনের সব কথা একটা সাদা কাগজে লিখবি মনি। তারপর কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে দিবি।’ ছিঁড়ে ফেলতে বলেছিলেন এই কারণে পাছে অন্য লোকেরা আমার এই কথাগুলো জেনে যায় এবং আমার প্রাইভেসি নষ্ট হয়ে পড়ে তাই।      আব্বার এই কথাটা মনে পড়তেই একখানা মোটা খাতা বার করে মনের সব দুঃখের কথা যা যা এই মুহূর্তে মনে আসছে এবং যেগুলোর দরুন আমার মনের শা...

মনসংযোগ

Image
লেখক - মনসুর আলি       রিমি বাবাকে বলল, ‘বাবা আমি পড়ায় মনসংযোগ করতে পারছি না। আমাকে এই প্রবলেম সলভ করে দাও।’      বাবা একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘তুই রোজ পড়তে বসার আগে তিন মিনিট করে মেডিটেশন করে নিবি। এই সময় কোনো একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের কথা ভাববি। শুধু সেইটার কথা ভাববি। আর কিছু না। একেবারে স্থির হয়ে বসে।’      পরেরদিন রিমি পড়তে বসার আগে তাই করল। ঠিক বাবা যেমন যেমন বলে দিয়েছিলেন। ও একটা গোলাপ ফুলের দৃশ্য মনে-মনে চিন্তা করল কয়েক মিনিট। দেখল এইভাবে মেডিটেশন করে ওর কনসেনট্রেশান ভালো তৈরি হল। পরেরদিন একই কাজ। আবার কনসেনট্রেশান তৈরি হল।      বাবাকে বলল, ‘বাবা মেডিটেশন সত্যিই ভালো ফল দেয়।’      বাবা মুচকি হাসলেন।  বার্তা - মেডিটেশন মনসংযোগ বাড়ায়। Image Source : Pixabay আরও পড়ুন: গল্প: একমাত্র নীতি 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_64.html?m=1 গল্প: সবচেয়ে মূল্যবান 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_17.html?m=1

সফলতার নীতি

Image
 লেখক - মনসুর আলি      বিজন একজন সাধারণ ছেলে ছিল। কয়েকবছর আগে সে একজন বড় বিজনেসম্যানে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামে তার দুটো বাড়ি। শহরে দুটো ফ্ল্যাট। রয়েছে তিনখানা ফোর হুইলার। ব্যাঙ্কে বিশাল অঙ্কের অর্থ।      নবগ্রামে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। লোকে তাকে অত্যন্ত সমীহ করে চলে। গ্রামে বিচার-সালিশি বসলে গ্রামের মানুষজন তাকে ডাকে।       বিজন শিক্ষিতও। এম এ পাস। ব্যবসা বলতে ও চানাচুর তৈরি করে। ওর ‘স্বাদ’ নামক ব্রান্ডের চানাচুর এখন বলতে গেলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।       আজকে সকালবেলায় টিভি চ্যানে ল থেকে লোক এসেছিল। ওর একটা ইন্টারভিউ নেবার জন্যে। কী করে ও এত বড় হল সেটা জানার জন্য।      সাংবাদিকদের আগমনে ২৪ বছরের ছেলে বিজন একটু মুচকি হাসল মনে-মনে।      প্রথমে কুশল বিনিময় হল তাঁদের সাথে। তারপর বিজন ও ওর মা ওদের মিষ্টান্ন ও ঠাণ্ডা পানীয় সহযোগে সুন্দর আপ্যায়ন করলেন ওঁদের।      এবার বিজনের বেডরুমে শুরু হল ইন্টারভিউ পর্ব।       সাংবাদিক মেয়েটি ওর মুখের সামনে মাইক্রোফোন ...

বার্ধক্য

Image
লেখক - মনসুর আলি       রাস্তার বামপাশ ধরে এক বৃদ্ধ মাটিতে লাঠি ঠুকে ঠুকে যাচ্ছেন। বিধান আর ওর তিন বন্ধু রাস্তার সেইপাশেই দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির খুলি আর একটা করে মোটা বিস্কুট। ভাঁড়ে করে চা খাওয়ার তৃপ্তি আলাদা।      ঘন্টা দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। এমন সময় বৃদ্ধ এসে ওকে হালকা ধাক্কা মারলেন। হাত থেকে কিছুটা চা ওর পড়ে গেল। বৃদ্ধ চোখে কম দেখেন। বয়স হয়েছে।      ঘন্টা রেগে কাঁই, ‘ব্যাটা বুড়ো কোথাকার। দেখে হাঁটতে পারো না।’      বৃদ্ধ মাথা তুলে শুধু বললেন, ‘তুমিও একদিন হবে।’      অতনু পাশেই ছিল। ঘন্টাকে বলল, ‘ভাই এটা ঠিক করলি না। পাঁচ টাকা দিলে একটা চা পাওয়া যায়। তুই ওনাকে এসব বলতে গেলি কেন? তুই কি জানিস না, আমরাও একদিন বয়স্ক হব। আমাদেরও শরীর ভেঙে যাবে, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। আমরাও একদিন মারা যাব। তুই বল, আমরা কি সারাজীবন এরকম ইয়াং থাকব? আমাদেরও তো ওইরকম দশা হবে। তাহলে এত অহংকার কেন করিস ভাই? আর তুই কি জানিস না, বয়স্ক মানুষদের আশীর্বাদ যেমন ঈশ্বর গ্র‍্যান্ট করে নেন, একইভাবে তাঁদের অভিশাপও তিনি...