খাঁটি প্রেমের আখ্যান - পর্ব - ১
খাঁটি প্রেমের আখ্যান
পর্ব - ১
লেখক - মনসুর আলি
কড়কড় কড়কড়...
কী হল?
“যাঃ, দিদিমণি রিকশার চেন কাটি গ্যাসে। কী করি এখন? চেন সারাতি গ্যালি তো গ্যারেজ খুঁজতি হবে। তুমি দিদিমণি অন্য রিকশো ধরে ল্যাও। কিছু মনে করোনি। এ আমার দোষ লয়৷ আমার কপালের দোষ,” ষাট পার হওয়া বৃদ্ধ রিকশাচালক রিকশা থেকে নেমে কাঁধের গামছাটা ডান হাতে নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল। সারা শরীর দিয়ে তার টপটপ করে নোনা জল ঝরছে।
মিমি দশ টাকার একটা পুরনো নোট আগিয়ে দিয়ে রিকশার ওপরে বসে থেকে বলল, “ঠিক আছে। আমি অন্য রিকশা দেখে নিচ্ছি। তোমার ভাড়া ছিল কুড়ি টাকা। তুমি তো আমাকে অনেকটাই আনলে। এই দশ টাকাটা নাও।”
রিকশাওয়ালা টাকাটা নিয়ে বলল, “তা দিদিমণি কোথায় যাওয়া হবে? মানে কদ্দূর? এই গরমের দিনে দুপুর হয়ে গ্যাচে। শুনশান রাস্তা। একটা গাড়ি নেই। তুমি আমার মেয়ের মতো। তাছাড়া এই পথে অনেক কাণ্ড ঘটে গ্যাচে আগে। চুরি, ছিনতাই, আরও কত কী। সব তোমারে বলতি পারব না। তোমারে একা ছাড়তি আমার বড্ড চিন্তা হচ্চে।”
মিমি উত্তর দিল, “বাপজান, তোমার এই মেয়েটা মার্শাল আর্ট জানে। মানে জবরদস্ত মারপিট শেখা আছে তার। তোমার কোননো চিন্তা নেই। তুমি যাও। আমি যাব উজানপুর। আমার মামারবাড়ি। এখান থেকে ভাটিখোলা যাব রিকশা ধরে। তারপর নৌকো করে নদী পেরোব। নদী পার হয়ে অটো করে যাব চল্লিশ মিনিট। অটো থেকে নেমে দশ মিনিটের হাঁটা পথ আমার মামারবাড়ি।”
রিকশাচালক বৃদ্ধ বলল, “উঃ। দিদিমণি তোমারে আর বোঝাতি পারলুম নে। তোমার ওই কী আর্ট ফাট না কী বলচ, চারটে লোক তোমারে অস্তর নে ধরলি তোমার মার্শাল না কী বলচ ওই কোনো কাজে আসবে? তুমি তকন কী করবেটা কী শুনি। তার চে তুমি আমার সাথে হেঁটি হেঁটি চলো। দেখি সামনে কোথাও সাইকেল গ্যারেজ আচে কি। চেনটা ঠিক করি নে তোমারে আমি নিরাপদে ভাটিখোলায় পৌঁছে দিয়ে আসি। তারপর তুমি যেমন করে পারো যেও'খন। মহিমপুর থেকে ভাটিখোলা কত ডেঞ্জারাস রোড জানো তুমি। যদি কিছু হয়ে যায় ভগবান আমারে ছাড়বে। বলবে তুই বা মেয়েটারে বিপদের মধ্যি ফেলে রেখে চলি গেলি? ওকাজ আমি পারব নি। তুমি আমার সাথে চলো...”
মিমি মিটমিট করে হাসছে। মাঝ আকাশে তপ্ত সূর্য। আগুনের মতো গনগনে রোদ। মিমির বাবা মারা গেছে চার বছর হচ্ছে। এই বৃদ্ধের মধ্যে আজ ও তার পিতার ছবি যেন দেখতে পাচ্ছে। কে এমন স্নেহ দেখায় স্বার্থের এই পৃথিবীতে।
সবে বৃদ্ধ আর মিমি দু'পা এগিয়েছে। বৃদ্ধ রিকশা টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। মিমি পাশে পাশে হাঁটছিল। হঠাৎ বৃদ্ধ থমকে দাঁড়াল...
“দিদিমণি কী হয়েচে বলো তো ওখানে? অত লোক কেন?” বৃদ্ধের বিস্মিত প্রশ্ন।
সত্যি তো! একটা কে শুয়ে গোঁঙাচ্ছে। অল্প আওয়াজ আসছে। আর ছ'-সাতজন মানুষ তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে। ওটা কী? লাল লাল কীসের ছাপ?
রক্ত!!!
বৃদ্ধ বলল, “দিদিমণি আর এগনো যাবে না। মুশকিল আচে। চলো যে পথে এইচি সেই পথ ধরে ফিরে যাই।”
অসম সাহসিনী মেয়ে মিমি বৃদ্ধকে বলল, “না কাকা, ফিরে আমি যাব না। দেখব কী হয়েছে।”
মিমি একপা একপা করে এগোতে থাকে।
পিছন থেকে ভয়ার্ত গলায় বৃদ্ধ ডাকে, “দিদিমণি দিদিমণি... যেওনি দিদিমণি... যেওনি আমি বলচি...”
মিমি তবুও একপা একপা করে এগোতে থাকে...
আগামী পর্ব - আগামীকাল রাত ১২:৩০ এ
ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন প্রিয় পাঠক...
Image Source : Pixabay

প্রিয় বন্ধু, গল্পটা কেমন লাগছে জানাবেন। খুশি হব।
ReplyDelete