প্রকৃতি
লেখক - মনসুর আলি
কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মটার ছবি অবিনাশবাবুকে খুব জড়িয়ে ফেলল এক আজব মায়ার বাঁধনে। নেমে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটিয়ে গেলে হয় না?
মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। বাড়ি যাবেন নাহয় নির্দিষ্ট সময়ের আধ বা এক ঘন্টা পর। নেমে পড়লেন অবিনাশবাবু।
গিয়ে বসলেন সিমেন্টের সিটে। ট্রেন সামন দিয়ে চলে গেল। তাকিয়ে দেখলেন, একঝাঁক বক নীলসাদা আকাশের বুক চিরে উড়ে গেল। তারপর ঘটিগরমওলা টিংটিং করে ঘণ্টি বাজিয়ে গেল। তিনি ডাকলেন তাকে। দশটাকার ঘটিগরম কিনে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে লাগলেন।
সামনের বনভূমি যেটা রেললাইনের ওপারে, সেটা কী নিবিড় সবুজ! কত সুন্দর লাগছে।
আজ বউ হয়ত বকাঝকা করবে। বলবে, “বুড়ো কোথাকার। স্টেশনে বসে প্রকৃতি দেখা হচ্ছে? এদিকে বাড়ি ফিরতে লেট হবে জানো না?”
বউ যা বলে বলুক। দেরি হবে হোক। আজ চোখ ভরে প্রকৃতি দেখবেন তিনি। ফিরতে যত লেট হয় হবে।
মোবাইল দিয়ে সেন জঙ্গলের ছবি একখান তিনি তুললেন। ওই যে সামনে চায়ের দোকান।
অবিনাশবাবু দোকানের কাছে গেলেন। চাওয়ালাকে বললেন, “এই যে বাবু মোলায়েম করে এককাপ চা দাও দিকিন। খাই তোমার দোকানে বসে। আর হ্যাঁ, চা খাওয়া হয়ে গেলে একটা সিগরেট।”
অবিনাশবাবু আজ প্রকৃতি দেখলেন। সাথে জীবন দেখলেন। তিনি আরও একবার বুঝলেন, জীবন মানে শুধু কাজ নয়। জীবন মানে অনেকসময় প্রকৃতি দর্শন, জীবন মানে জীবনে বেঁচে থেকে জীবনকে দেখা, মানুষকে দেখা।
আহা! অবিনাশবাবুর আজ দিনটা কী ভালো যে কাটল!
সন্ধে সাতটা। অবিনাশবাবু বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে চোখ বুঁজিয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ ধরে ধপধপি স্টেশনের ছবিগুলো ভাবতে লাগলেন। পরম প্রশান্তি তাঁর সমগ্র দেহমন জুড়ে।
বার্তা - মাঝে মাঝে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দেখতে হয়। মনে সুখ পাওয়া যায়।
Image Source : Pixabay
এই ধরনের গল্প আরও পড়ুন -
গল্প - অবলম্বন
https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_9.html
গল্প - লেখার প্রয়োজন
https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_4.html
গল্প - ব্যথা নিষ্কাশন

প্রিয় বন্ধু, লেখাটি কেমন লাগল জানাবেন...
ReplyDelete