Posts

Showing posts with the label FICTION

বার্ধক্য

Image
লেখক - মনসুর আলি       রাস্তার বামপাশ ধরে এক বৃদ্ধ মাটিতে লাঠি ঠুকে ঠুকে যাচ্ছেন। বিধান আর ওর তিন বন্ধু রাস্তার সেইপাশেই দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির খুলি আর একটা করে মোটা বিস্কুট। ভাঁড়ে করে চা খাওয়ার তৃপ্তি আলাদা।      ঘন্টা দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। এমন সময় বৃদ্ধ এসে ওকে হালকা ধাক্কা মারলেন। হাত থেকে কিছুটা চা ওর পড়ে গেল। বৃদ্ধ চোখে কম দেখেন। বয়স হয়েছে।      ঘন্টা রেগে কাঁই, ‘ব্যাটা বুড়ো কোথাকার। দেখে হাঁটতে পারো না।’      বৃদ্ধ মাথা তুলে শুধু বললেন, ‘তুমিও একদিন হবে।’      অতনু পাশেই ছিল। ঘন্টাকে বলল, ‘ভাই এটা ঠিক করলি না। পাঁচ টাকা দিলে একটা চা পাওয়া যায়। তুই ওনাকে এসব বলতে গেলি কেন? তুই কি জানিস না, আমরাও একদিন বয়স্ক হব। আমাদেরও শরীর ভেঙে যাবে, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। আমরাও একদিন মারা যাব। তুই বল, আমরা কি সারাজীবন এরকম ইয়াং থাকব? আমাদেরও তো ওইরকম দশা হবে। তাহলে এত অহংকার কেন করিস ভাই? আর তুই কি জানিস না, বয়স্ক মানুষদের আশীর্বাদ যেমন ঈশ্বর গ্র‍্যান্ট করে নেন, একইভাবে তাঁদের অভিশাপও তিনি...

আশীর্বাদ

Image
 লেখক - মনসুর আলি      সুকান্ত স্কুল থেকে ফিরছে। মুন্সিগঞ্জ প্ল্যাটফর্মে উঠে স্টেশনের বড় আয়তক্ষেত্রাকার কালো ডিজিটাল ঘড়িটার দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করে দেখল ট্রেন আসতে এখনও বারো মিনিট বাকি।      ও প্ল্যাটফর্মের শেডের বামদিকের চায়ের দোকানটার সামনে এল। অল্প অল্প শীত পড়েছে। এইসময় এককাপ চা মানে দারুণ ব্যাপার।       যেতেই এক সাদা শাড়ি পরা শীর্ণকায়া ভিখারিণী ওর সামনে এসে বলল, ‘বাবা এককাপ চা খাওয়াবে?’      সুকান্ত একবার তাকিয়ে দেখল তাঁর দিকে। তারপর দোকানীর দিকে ফিরে বলল, ‘এনাকে এককাপ চা দিয়ে দাও।’      চাঅলা সাথে-সাথেই চা দিল। চা-টা হাতে নিয়ে ভিখারিণী সুকান্তকে আশীর্বাদ করল, ‘বাবা ঈশ্বর তোমার অনেক সুখ-শান্তি দিক।’      শুনে সুকান্তর ভালোই লাগল। মনে তৃপ্তি অনুভব করল।      এই ঘটনা কাউকে ও বলেনি। এমনকী ওইদিন প্ল্যাটফর্মে হাজির ওর কোনও কলিগকেও না।      বাড়ি ফিরে মুখহাত ধুয়ে দুটো ভাত খেল। এই সময়ে ও ভাত খায় না। স্কুলে রান্না হয়। ক্যান্টিন মতো আছে। সেখানে খায়। ফলে বাড়ি ফির...