Posts

Showing posts with the label ROMANCE

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ৩

Image
  লেখক - মনসুর আলি      ছেলেটাকে নিয়ে মিমি সোজা চলে গেল কিছুটা দূরের একটা মেন্টাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে। সেটার নাম মনরহস্য।      সেখানে গিয়ে সবকিছু জানাল রিসেপশনিস্টকে। রিসেপশনিস্ট মেয়েটি বলল, “আপনি কী বলছেন, ওকে ভর্তি নেব না আমরা? আমরা তো ওইজন্যই বসে আছি। ওকে ভর্তি করিয়ে দিন এখানে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টি চালিত। এখানে খরচ কিছু নেই। ওর যেহেতু অভিভাবকের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না সেইহেতু আপনিই ওর অভিভাবকের ভূমিকাটা পালন করবেন। মাঝেসাঝে এই ধরুন সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন এসে ওর খোঁজটা নিয়ে যাবেন। কী, পারবেন না?”     ছেলেটার নাম জানা গেল না। শুধু ছেলেটার মুখ দেখে মিমির কেমন যেন একটা মায়া হতে লাগল। ও চোখের কোণটা ওড়নার প্রান্ত দিয়ে একটু মুছে নিয়ে বলল, “পারব। নিশ্চয়ই পারব। আমি মাঝেমধ্যে এসে ওকে দেখে যাব।”      মিমি ওকে রেখে বাড়ি চলে এল। মামাবাড়ি আর সেদিন যাওয়া হল না। মামি ফোন করল, “কীরে এলি না যে?”     মামিকে সব বলল মিমি। মামি শুনে বলল, “নাঃ। পুণ্যের কাজ করলি রে তুই একটা। ছেলেটা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে কতই না ভালো হবে...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ২

Image
  লেখক - মনসুর আলি      জটলার কাছে গিয়ে মিমি একজন লোককে বলল, “দাদা, এখানে এত লোক কেন? কী হয়েছে?”     লোকটি জবাব দিল, “ওই যে ছেলেটা দেখছেন ও একটা পাগল। একটা বাইক এসে ওর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। ঘেন্নায় ওর কাছে যাচ্ছে না।”     ছেলেটা শুধু “ও মাগো, বাবা গো” করে চিৎকার করে পা-টা ধরে কেঁদে যাচ্ছে।      মিমি শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করল, “উফ! কী আশ্চর্য! এত লোক, কেউ এগিয়ে আসছে না? মানুষ এখানে আছে কেউ? আমার তো মনে হচ্ছে না।”     তারপর সামনের লোকগুলোকে ঠেলে ভিড়ের মাঝখানে ঢোকার চেষ্টা করতে লাগল মিমি। মুখে শুধু বলতে লাগল, “এই যে সরুন তো দেখি। সরুন সরুন। চলুন দেখি। সাইড দিন। এত মানুষ। কেউ আসছে না। কী আছে ঘেন্নার। ছেলেটার গায়ে ময়লা পোশাক। এছাড়া আর কী আছে ওর গায়ে। কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।”     তারপর রিকশাওয়ালাকে ডাকল, “কাকা, এসো তো। ধরো ছেলেটাকে। রিকশায় তুলি। হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে।”     মিমি রিকশাওয়ালাকে বলল, “রিকশার চেন কেটে গেছে। চলবে না। চালাতে হবে না। টেনে নিয়ে চলো কাকা।”     রি...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান - পর্ব - ১

Image
খাঁটি প্রেমের আখ্যান  পর্ব - ১ লেখক - মনসুর আলি         কড়কড় কড়কড়...      কী হল?     “যাঃ, দিদিমণি রিকশার চেন কাটি গ্যাসে। কী করি এখন? চেন সারাতি গ্যালি তো গ্যারেজ খুঁজতি হবে। তুমি দিদিমণি অন্য রিকশো ধরে ল্যাও। কিছু মনে করোনি। এ আমার দোষ লয়৷ আমার কপালের দোষ,” ষাট পার হওয়া বৃদ্ধ রিকশাচালক রিকশা থেকে নেমে কাঁধের গামছাটা ডান হাতে নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল। সারা শরীর দিয়ে তার টপটপ করে নোনা জল ঝরছে।      মিমি দশ টাকার একটা পুরনো নোট আগিয়ে দিয়ে রিকশার ওপরে বসে থেকে বলল, “ঠিক আছে। আমি অন্য রিকশা দেখে নিচ্ছি। তোমার ভাড়া ছিল কুড়ি টাকা। তুমি তো আমাকে অনেকটাই আনলে। এই দশ টাকাটা নাও।”     রিকশাওয়ালা টাকাটা নিয়ে বলল, “তা দিদিমণি কোথায় যাওয়া হবে? মানে কদ্দূর? এই গরমের দিনে দুপুর হয়ে গ্যাচে। শুনশান রাস্তা। একটা গাড়ি নেই। তুমি আমার মেয়ের মতো। তাছাড়া এই পথে অনেক কাণ্ড ঘটে গ্যাচে আগে। চুরি, ছিনতাই, আরও কত কী। সব তোমারে বলতি পারব না। তোমারে একা ছাড়তি আমার বড্ড চিন্তা হচ্চে।”     মিমি উত্তর দিল, “বাপজান, তোমার এই মেয়েটা ...

কিছু কথা, কিছু ব্যথা

Image
লেখক - মনসুর আলি        মলয় আজকে অফিসে যাবার জন্য অটোতে উঠল। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার রেলস্টেশন। অটোয় উঠে চুপটি করে বসল। কিছুটা গিয়ে প্যাসেঞ্জার নেবে বলে অটো থামল।     সবুজ চুড়িদার পরে একটি মেয়ে উঠল।      মলয়ের টনক নড়ে গেল। আরে, এ যে পাপিয়া! এখনও সেইরকম তন্বী, সুন্দরী হয়ে আছে। কে বলবে একত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেছে।      মলয়কে দেখে হাসল পাপিয়া। মলয় বলল, “কেমন আছ?”     পাপিয়া বলল, “ভালো থাকি কী করে? তোমার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সেই দিন থেকে আমার কপালে আগুন ধরে গেল। যাকগে, সে তো তুমি ইচ্ছে করে করোনি। তোমার বাবাই এর পেছনে ছিলেন। আমরা তোমাদের মতো তো উচ্চবিত্ত ঘরের লোক নই, তাই আমি মেনে নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ইচ্ছে করলে তোমার বাবার সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দিতে পারতাম। শুধু একটা ভালো মেয়ের কথা চিন্তা করে তোমাদের পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। ওই অপরূপাই একদিন আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম ওকে এতদিন পর একটা গিফট দেবার সুযোগ এসেছে। আর সেই গিফটটা ছিলে তুমি। আমি তোমাকে ওর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলাম।”     “...

আঁখিতে প্রেম

Image
লেখক - মনসুর আলি      কুহেলি আর সৃজিতা কলেজ থেকে সন্ধেবেলায় বাড়ি ফিরছে। বিদ্যাসাগর কলেজে ইংলিশ অনার্স পড়ে এরা দুই বান্ধবী। কলেজ সেরে ফিরতে-ফিরতে এই শীতের দিনে সন্ধেই হয়ে যায়।      সবে পাইকপাড়া মানে ওদের পাড়ার সীমানায় পা দিয়েছে, সৃজিতা কুহেলিকে উচ্ছ্বসিত সুরে বলল, ‘এইবার তোর মন-ভালো পাগলার দেখা মিলবে। পাড়ায় ঢুকে গেছি যে। আর সামনেই যে আমাদের সোনালি সঙ্ঘ। দেখবি'খন সে এতক্ষণ হয়ত ক্লাবের মাচায় বসে সিগারেট টানছে।’      কুহেলি বলল, ‘কী করে বলল সেদিন, তোমায় দেখলে আমার মন ভালো হয়ে যায়!’      সৃজিতা বলল, ‘ছেলেটা মন্দ নয়। বিহ্যাভিয়ার ভালো। পাড়ায় সুনাম আছে। কোয়ালিফায়েড এবং প্রতিষ্ঠিত।’      কুহেলি বলল, ‘ওদের বড় বিজনেস বল?’      সৃজিতা বলল, ‘যারা কাজের গ্ল্যামার দেখে তাদের কাছে ওদের দাম নেই। ওরা শপিং মল বা নামী রেস্টুরেন্টের মালিক নয়। তবে ওরা কৃষিজ সার বিক্রি করে ওদের দোকান থেকে যা আয় করে, আমার যতদূর জানা আছে পাঁচজন চাকরিজীবীর যা মোট ইনকাম তার চেয়ে ওদের ইনকাম বেশি। তুই হ্যাঁ-টা বলেই দে। ও তো তোকে প্রপোজ কর...