সচ্ছলতার চাবিকাঠি
লেখক - মনসুর আলি
বলাই আর লখাইয়ের গল্প। বলাই অটো চালায়। লখাইও অটো চালায়। সন্ধেবেলা সীতানাথ মন্দির হাটে আসমতের চায়ের দোকানে ওদের আড্ডা। প্রত্যেকদিন ওদের সাক্ষাৎ হবেই। এক্কেবারে ধরাবাঁধা। পৃথিবী উল্টে গেলেও ওদের আড্ডা হবেই। এমনতর ব্যাপার।
সে যাইহোক, কথা সেটা নয়। আসল কথা হল, ইদানীং বলাই বেশ মুশকিলে পড়েছে। এটা একদিনের বা একমাসের সমস্যা না। বছরের পর বছর ধরে জ্বালাতন করে আসা সমস্যা। সেটা আর কিছু না, এমন— দুজনেই অটো চালায়। ইনকাম প্রায় একই। বলাই ওই টাকায় সংসার চালাতে পারছে না। মাস শেষে ধার করতে হয় লখাইয়ের থেকে। লখাই কিন্তু ওর উপার্জন দিয়ে সংসার চালিয়ে কিছু টাকা বাঁচিয়েই ফেলে প্রতি মাসে।
কেন এমন হয়। প্রশ্ন বলাইয়ের। আজ লখাইয়ের কাছে প্রশ্নটা রাখল চায়ের কাপ হাতে নিয়ে, “হ্যাঁরে লখাই, তুই কী করে তোর দুই ছেলেমেয়ে আর বউদি এই চারজনের সংসার চালিয়ে টাকা জমাস প্রতি মাসে? আমার তো হয় না! আমাকে তোর কাছে হাত পাততে হয়। অথচ আমার ফ্যামিলিতেও চারজন আর আমারও তোর মতোই একই আয়?”
লখাই শুধু একটা কথা বলল, “আজ তুই কী বাজার করেছিস?”
বলাই বলল, “কাল রবিবার। তাই এককিলো মুরগির মাংস, চারটে ক্যাপসিকাম, এককিলো বিট, এককিলো গাঁজর, দুশো ডাল।”
লখাই বলল, “এবার আমারটা শোন। কাল আমারও রবিবার। আমি নিয়েছি পাঁসশো মাংস, পনেরো টাকার বিনস, একশো ডাল, এককিলো আলু। এবার বোঝ কালকে তোর কত যাবে আর আমার কত যাবে।”
বলাই বলল, “আজকে আমার সারাদিনের টিফিন গেছে ষাট টাকার।”
লখাই বলল, “আমার কুড়ি টাকার।”
লখাই বলল, “এবার বুঝছিস কেন আমার মাসের শেষে টাকা থাকে আর তোর কেন তোর থাকে না?”
বলাই বলল, “বুঝেছি। খরচে লাগাম পরাতে হবে।”
“যেমন ঘোড়ার মুখে লাগাম না দিলে ঘোড়া দুদ্দাড় গতিতে যেদিক-সেদিক ছোটে,” বলে লখাই মুচকি হেসে চায়ের কাপে চুমুক বসাল।
বার্তা - মিতব্যয়ী না হলে সংসারের অভাব যায় না।
Image Source : Pixabay
এই ধরনের গল্প আরও পড়ুন -
গল্প: প্রকৃতি
https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_18.html
গল্প: অবলম্বন
https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_9.html
গল্প: লেখার প্রয়োজন

প্রিয় বন্ধু, গল্পটি কেমন লাগল প্লিজ জানাবেন...
ReplyDelete