Posts

ব্যথা নিষ্কাশন

Image
লেখক - মনসুর আলি     আজ আমার মনটা বিশেষ কারণে ভারাক্রান্ত। কী কারণে ভারাক্রান্ত তা এখানে উল্লেখ করতে চাই না। যদি আউটলাইন দিতে বলেন, তাহলে বলতে পারি একান্ত ব্যক্তিগত। সংসারী মানুষের মন এক এক সময় এক এক রকম হয়ে যায়, কেননা সংসারে আছে নানান ধরনের, নানান তীব্রতার ঘাত ও প্রতিঘাত। আমি কেবল এটুকুই বলতে পারি আমার মনের অবস্থা ভালো না।     মন খারাপ থাকলে কি কিছু ভালো লাগে। বই পড়া, গান শোনা, গল্প করা, খাবার খাওয়া— কিচ্ছু ভালো লাগে না। আমি যেহেতু শিক্ষিত মানুষ, তাই আমি সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকাটা পছন্দ করি না। ভাবতে লাগলাম মনের এ তীব্র বেদনা কীভাবে মন থেকে বার করে দিয়ে একটু হালকা হওয়া যায়।     আব্বা বেঁচে থাকতে আমায় প্রায়শই বলতেন, ‘যখন মন খারাপ থাকবে, মনের সব কথা একটা সাদা কাগজে লিখবি মনি। তারপর কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে দিবি।’ ছিঁড়ে ফেলতে বলেছিলেন এই কারণে পাছে অন্য লোকেরা আমার এই কথাগুলো জেনে যায় এবং আমার প্রাইভেসি নষ্ট হয়ে পড়ে তাই।      আব্বার এই কথাটা মনে পড়তেই একখানা মোটা খাতা বার করে মনের সব দুঃখের কথা যা যা এই মুহূর্তে মনে আসছে এবং যেগুলোর দরুন আমার মনের শা...

মনসংযোগ

Image
লেখক - মনসুর আলি       রিমি বাবাকে বলল, ‘বাবা আমি পড়ায় মনসংযোগ করতে পারছি না। আমাকে এই প্রবলেম সলভ করে দাও।’      বাবা একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘তুই রোজ পড়তে বসার আগে তিন মিনিট করে মেডিটেশন করে নিবি। এই সময় কোনো একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের কথা ভাববি। শুধু সেইটার কথা ভাববি। আর কিছু না। একেবারে স্থির হয়ে বসে।’      পরেরদিন রিমি পড়তে বসার আগে তাই করল। ঠিক বাবা যেমন যেমন বলে দিয়েছিলেন। ও একটা গোলাপ ফুলের দৃশ্য মনে-মনে চিন্তা করল কয়েক মিনিট। দেখল এইভাবে মেডিটেশন করে ওর কনসেনট্রেশান ভালো তৈরি হল। পরেরদিন একই কাজ। আবার কনসেনট্রেশান তৈরি হল।      বাবাকে বলল, ‘বাবা মেডিটেশন সত্যিই ভালো ফল দেয়।’      বাবা মুচকি হাসলেন।  বার্তা - মেডিটেশন মনসংযোগ বাড়ায়। Image Source : Pixabay আরও পড়ুন: গল্প: একমাত্র নীতি 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_64.html?m=1 গল্প: সবচেয়ে মূল্যবান 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_17.html?m=1

সফলতার নীতি

Image
 লেখক - মনসুর আলি      বিজন একজন সাধারণ ছেলে ছিল। কয়েকবছর আগে সে একজন বড় বিজনেসম্যানে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামে তার দুটো বাড়ি। শহরে দুটো ফ্ল্যাট। রয়েছে তিনখানা ফোর হুইলার। ব্যাঙ্কে বিশাল অঙ্কের অর্থ।      নবগ্রামে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। লোকে তাকে অত্যন্ত সমীহ করে চলে। গ্রামে বিচার-সালিশি বসলে গ্রামের মানুষজন তাকে ডাকে।       বিজন শিক্ষিতও। এম এ পাস। ব্যবসা বলতে ও চানাচুর তৈরি করে। ওর ‘স্বাদ’ নামক ব্রান্ডের চানাচুর এখন বলতে গেলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।       আজকে সকালবেলায় টিভি চ্যানে ল থেকে লোক এসেছিল। ওর একটা ইন্টারভিউ নেবার জন্যে। কী করে ও এত বড় হল সেটা জানার জন্য।      সাংবাদিকদের আগমনে ২৪ বছরের ছেলে বিজন একটু মুচকি হাসল মনে-মনে।      প্রথমে কুশল বিনিময় হল তাঁদের সাথে। তারপর বিজন ও ওর মা ওদের মিষ্টান্ন ও ঠাণ্ডা পানীয় সহযোগে সুন্দর আপ্যায়ন করলেন ওঁদের।      এবার বিজনের বেডরুমে শুরু হল ইন্টারভিউ পর্ব।       সাংবাদিক মেয়েটি ওর মুখের সামনে মাইক্রোফোন ...

বার্ধক্য

Image
লেখক - মনসুর আলি       রাস্তার বামপাশ ধরে এক বৃদ্ধ মাটিতে লাঠি ঠুকে ঠুকে যাচ্ছেন। বিধান আর ওর তিন বন্ধু রাস্তার সেইপাশেই দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির খুলি আর একটা করে মোটা বিস্কুট। ভাঁড়ে করে চা খাওয়ার তৃপ্তি আলাদা।      ঘন্টা দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। এমন সময় বৃদ্ধ এসে ওকে হালকা ধাক্কা মারলেন। হাত থেকে কিছুটা চা ওর পড়ে গেল। বৃদ্ধ চোখে কম দেখেন। বয়স হয়েছে।      ঘন্টা রেগে কাঁই, ‘ব্যাটা বুড়ো কোথাকার। দেখে হাঁটতে পারো না।’      বৃদ্ধ মাথা তুলে শুধু বললেন, ‘তুমিও একদিন হবে।’      অতনু পাশেই ছিল। ঘন্টাকে বলল, ‘ভাই এটা ঠিক করলি না। পাঁচ টাকা দিলে একটা চা পাওয়া যায়। তুই ওনাকে এসব বলতে গেলি কেন? তুই কি জানিস না, আমরাও একদিন বয়স্ক হব। আমাদেরও শরীর ভেঙে যাবে, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। আমরাও একদিন মারা যাব। তুই বল, আমরা কি সারাজীবন এরকম ইয়াং থাকব? আমাদেরও তো ওইরকম দশা হবে। তাহলে এত অহংকার কেন করিস ভাই? আর তুই কি জানিস না, বয়স্ক মানুষদের আশীর্বাদ যেমন ঈশ্বর গ্র‍্যান্ট করে নেন, একইভাবে তাঁদের অভিশাপও তিনি...

একমাত্র নীতি

Image
লেখক - মনসুর আলি       জিমি ওর বাবাকে আজ বলল, ‘বাবা, তুমি তো আমাকে আজ অবধি অনেক উপদেশ দিয়েছ। অত উপদেশ আমি মনে রাখতে পারি না। ফলে মেনে চলতেও পারি না। তুমি আমাকে শুধু একটা উপদেশ দাও, যেটা আমি মেনে চললে আমার অনেক উপকার হবে।’      ক্লাস ফোরে পড়া ছোট্ট জিমির কথা শুনে বাবা হাসলেন। বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি তোকে জাস্ট একটাই উপদেশ দেব। সেটা তুই পালন করবি। দেখবি তুই জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফল হবি। সেটা হল— সবসময় সত্যি কথা বলবি।’      সোৎসাহে জিমি বলল, ‘মানে বাবা তুমি বলতে চাইছ— Honesty is the best policy -র কথা?’      ‘একদম তাই,’ বাবা বললেন।       জিমি সেই থেকে সবসময় সত্য কথা বলে। মিথ্যা কখনও বলে না।      এটা আজ থেকে ষোলো বছর আগের ঘটনা।      জিমি এখন একজন MBBS , MD ডাক্তার।  বার্তা - শুধুমাত্র সততা দিয়েই একজন অনেক উপরে উঠে যেতে পারে।  Image Source : Pixabay আরও পড়ুন: গল্প : সবচেয়ে মূল্যবান 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_17.html?m=1

About

Image
     মনসুর আলি মূলত বাংলা গল্প, উপন্যাস লেখেন। এই পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় যেমন বর্তমান, বাংলা স্টেটসম্যান, সুখবর, এবং বহু লিটিল ম্যাগাজিন ও ওয়েব ম্যাগাজিনে এই লেখকের অসংখ্য গল্প প্রকাশিত হয়েছে। ‘গল্পচূড়া’ শীর্ষক এই ব্লগটিতে লেখক মনসুর আলি প্রকাশ করে চলবেন তাঁর রচিত নানান স্বাদের ছোটদের ও বড়দের নানান ধরনের গল্প। প্রিয় পাঠক, ব্লগের হোমপেজের ওপরে বামদিকে ড্রপডাউন মেনুতে স্পর্শ করলে গল্পের শ্রেণিগুলি পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ মতো গল্প ওপেন করে পড়তে পারবেন। আর হ্যাঁ, পড়া শেষ হলে কেমন লাগল কমেন্ট বক্সে জানালে লেখকের ভালো লাগবে। আর যদি লেখকের সাথে প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে চান তাহলে হোমপেজের ওপরে CONTACT US এ ক্লিক করে Form এ লিখে Submit বাটনে ক্লিক করবেন।       আর-একটা কথা, এই ব্লগের বিশেষত্ব হল -      সহজ ভাষায় জীবনঘনিষ্ঠ গল্প – যেখানে আছে জ্ঞান, অনুপ্রেরণা আর বিনোদন।     Golpochura.com একটি বাংলা গল্পভিত্তিক ওয়েবসাইট।     এখানে আমরা বাস্তব জীবন, অনুভূতি, সম্পর্ক ও সমাজঘনিষ্ঠ গল্প প্রকাশ করি।     এই ব...

আশীর্বাদ

Image
 লেখক - মনসুর আলি      সুকান্ত স্কুল থেকে ফিরছে। মুন্সিগঞ্জ প্ল্যাটফর্মে উঠে স্টেশনের বড় আয়তক্ষেত্রাকার কালো ডিজিটাল ঘড়িটার দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করে দেখল ট্রেন আসতে এখনও বারো মিনিট বাকি।      ও প্ল্যাটফর্মের শেডের বামদিকের চায়ের দোকানটার সামনে এল। অল্প অল্প শীত পড়েছে। এইসময় এককাপ চা মানে দারুণ ব্যাপার।       যেতেই এক সাদা শাড়ি পরা শীর্ণকায়া ভিখারিণী ওর সামনে এসে বলল, ‘বাবা এককাপ চা খাওয়াবে?’      সুকান্ত একবার তাকিয়ে দেখল তাঁর দিকে। তারপর দোকানীর দিকে ফিরে বলল, ‘এনাকে এককাপ চা দিয়ে দাও।’      চাঅলা সাথে-সাথেই চা দিল। চা-টা হাতে নিয়ে ভিখারিণী সুকান্তকে আশীর্বাদ করল, ‘বাবা ঈশ্বর তোমার অনেক সুখ-শান্তি দিক।’      শুনে সুকান্তর ভালোই লাগল। মনে তৃপ্তি অনুভব করল।      এই ঘটনা কাউকে ও বলেনি। এমনকী ওইদিন প্ল্যাটফর্মে হাজির ওর কোনও কলিগকেও না।      বাড়ি ফিরে মুখহাত ধুয়ে দুটো ভাত খেল। এই সময়ে ও ভাত খায় না। স্কুলে রান্না হয়। ক্যান্টিন মতো আছে। সেখানে খায়। ফলে বাড়ি ফির...