বার্ধক্য
রাস্তার বামপাশ ধরে এক বৃদ্ধ মাটিতে লাঠি ঠুকে ঠুকে যাচ্ছেন। বিধান আর ওর তিন বন্ধু রাস্তার সেইপাশেই দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির খুলি আর একটা করে মোটা বিস্কুট। ভাঁড়ে করে চা খাওয়ার তৃপ্তি আলাদা।
ঘন্টা দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। এমন সময় বৃদ্ধ এসে ওকে হালকা ধাক্কা মারলেন। হাত থেকে কিছুটা চা ওর পড়ে গেল। বৃদ্ধ চোখে কম দেখেন। বয়স হয়েছে।
ঘন্টা রেগে কাঁই, ‘ব্যাটা বুড়ো কোথাকার। দেখে হাঁটতে পারো না।’
বৃদ্ধ মাথা তুলে শুধু বললেন, ‘তুমিও একদিন হবে।’
অতনু পাশেই ছিল। ঘন্টাকে বলল, ‘ভাই এটা ঠিক করলি না। পাঁচ টাকা দিলে একটা চা পাওয়া যায়। তুই ওনাকে এসব বলতে গেলি কেন? তুই কি জানিস না, আমরাও একদিন বয়স্ক হব। আমাদেরও শরীর ভেঙে যাবে, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। আমরাও একদিন মারা যাব। তুই বল, আমরা কি সারাজীবন এরকম ইয়াং থাকব? আমাদেরও তো ওইরকম দশা হবে। তাহলে এত অহংকার কেন করিস ভাই? আর তুই কি জানিস না, বয়স্ক মানুষদের আশীর্বাদ যেমন ঈশ্বর গ্র্যান্ট করে নেন, একইভাবে তাঁদের অভিশাপও তিনি গ্র্যান্ট করে নেন। ওই ব্যক্তিকে তুই যে আঘাত দিলি তোর ঈশ্বর কি তোর ওপর সন্তুষ্ট হবেন ভেবেছিস? কীসে কী হয় জানিস তুই?’
ওদের মধে নিমাই ছিল। সে বলল, ‘হ্যাঁ রে অতনু তুই ঠিক বলেছিস। আমি একদিন আমার দাদুকে রেগে গিয়ে আজেবাজে কথা বলেছিলাম। তার পরের দিন সাইকেলে বাজারে যেতে গিয়ে আমার একসিডেন্ট হয়েছিল। বয়স্ক মানুষদের আঘাত করে কথা বলতে নেই। ওঁদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয়। ওঁদের কেয়ার নিতে হয়। ওঁরা চলে যাবেন মানে একটা প্রজন্ম বিদায় নেবে। আমাদের কাছে এটা অনেক ক্ষতি। আমরা ওঁদের থেকে কত জ্ঞান, উপদেশ, বাণী পেয়েছি বল তো। যেগুলো দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে সহজ আর সুন্দর করতে পেরেছি। তাই প্লিজ ঘন্টা ওরকম আর করিস না।’
ঘন্টা মাথা নীচু করে বলল, ‘সরি। আর কোনওদিন হবে না।’
অতনু বলল, ‘মনে রাখিস।’
ঘন্টা আর-এক ভাঁড় চা নিল।
চার বন্ধু মনের খুশিতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একসাথে চা খেতে লাগল।
এদের চেতনার উন্মেষ লক্ষ করে ওপর থেকে স্রষ্টা বোধহয় একবার হাসলেন।
পড়ন্ত বিকেলটা সুন্দর দেখাচ্ছে। সেও মনে হয় হাসছে।
বার্তা - বয়স্ক মানুষদের মনে আঘাত দিয়ে কথা বলতে নেই। তাঁদের কেয়ার নিতে হয়।
Image Source : Pixabay
আরও পড়ুন:
গল্প: আশীর্বাদ 👇
https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_18.html?m=1

Comments
Post a Comment