সফলতার নীতি

মেয়েটি ছেলেটির ইন্টারভিউ নিচ্ছে



     বিজন একজন সাধারণ ছেলে ছিল। কয়েকবছর আগে সে একজন বড় বিজনেসম্যানে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামে তার দুটো বাড়ি। শহরে দুটো ফ্ল্যাট। রয়েছে তিনখানা ফোর হুইলার। ব্যাঙ্কে বিশাল অঙ্কের অর্থ।

     নবগ্রামে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। লোকে তাকে অত্যন্ত সমীহ করে চলে। গ্রামে বিচার-সালিশি বসলে গ্রামের মানুষজন তাকে ডাকে। 

     বিজন শিক্ষিতও। এম এ পাস। ব্যবসা বলতে ও চানাচুর তৈরি করে। ওর ‘স্বাদ’ নামক ব্রান্ডের চানাচুর এখন বলতে গেলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে। 

     আজকে সকালবেলায় টিভি চ্যানে

ল থেকে লোক এসেছিল। ওর একটা ইন্টারভিউ নেবার জন্যে। কী করে ও এত বড় হল সেটা জানার জন্য।

     সাংবাদিকদের আগমনে ২৪ বছরের ছেলে বিজন একটু মুচকি হাসল মনে-মনে।

     প্রথমে কুশল বিনিময় হল তাঁদের সাথে। তারপর বিজন ও ওর মা ওদের মিষ্টান্ন ও ঠাণ্ডা পানীয় সহযোগে সুন্দর আপ্যায়ন করলেন ওঁদের।

     এবার বিজনের বেডরুমে শুরু হল ইন্টারভিউ পর্ব। 

     সাংবাদিক মেয়েটি ওর মুখের সামনে মাইক্রোফোন ধরে প্রথমেই বলল, ‘বিজনবাবু ‘গ্রামের সংবাদ’ চ্যানেলের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন। এবার আপনি বলুন আপনার এই এত বড় সাফল্যের পিছনে রহস্যটি কী? আপনি যে এই এত অল্প বয়সে এত বড় একটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করলেন তা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা সবাই জানতে চাই আপনার সাফল্যের পিছনে থাকা সেই গোপন রহস্যটি।’

     বিজন বলল, ‘গোপন নয়। আমি যে নীতিটি পালন করে চলি সেটা অনেকেরই জানা। তবে যারা সফল হতে পারেন না তাদের সাথে আমার একটাই পার্থক্য, তারা নীতিটি বাস্তবে প্রয়োগ করে না, আমি করি।’

     সাংবাদিক মেয়েটি বলল, ‘কীরকম কীরকম?’

     বিজন বলল, ‘আশ্চর্যজনক নিয়ম কিছু নয়। সাধারণ জিনিস। সময়ের কাজ সময়ে করা। এই যেমন ধরুন এখন আমার মনে হচ্ছে আমার হিসেবের খাতাটায় ছোটো একটা মিসটেক হয়ে আছে, সেটা আমাকে কারেকশন করতে হবে। কাজটা ইচ্ছে করলে আমি এই ইন্টারভিউ শেষ হলেই গিয়ে করতে পারি এবং তাই করা উচিত। কিন্তু ইন্টারভিউ শেষে যদি আমার মনে এই চিন্তা আসে— ধুস, ও পরে করব। থাক এখন। এখন একটু রেস্ট নিই। কাজ তো পালিয়ে যাচ্ছে না।— এরপর দেখা গেল হয়ত আমি ব্যাপারটা পুরো ভুলেই গেলাম। কারেকশনটা আর করাই হল না। এই দ্বিতীয়টাকে বলা হয় Impending Attitude। এটা সাফল্যের পথে খুব বড় একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’

     সাংবাদিক বললেন, ‘তাহলে আপনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে কী মেসেজ দিতে চান?’

     বিজন বলল, ‘শুধু একটা কথা, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, কাজ কখনও পরে করব বলে ফেলে রাখবেন না। যে কাজ যে সময়ের সেই কাজ সেই সময়ে করে ফেলুন। আর কিছু না। এই নীতিটা আপনারা ফলো করে দেখুন আপনারা জীবনে সফল হবেনই। কেউ আটকাতে পারবে না। ধন্যবাদ।’

     ইন্টারভিউ শেষ হল।

     সাংবাদিক মেয়েটি ও তার সহযোগীরা বিজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। বিজন ওর অফিস রুমে ঢুকে গেল। হিসাবের খাতাটায় কারেকশনটা সেরে ফেলতে হবে যে… 


বার্তা - সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়।


Image Source : Pixabay


আরও পড়ুন:

গল্প: দরকার ডিসিপ্লিন 👇

https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_15.html?m=1


Comments

  1. প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগল জানাবেন...

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

মোবাইলে মুশকিল

আঁখিতে প্রেম