বি পজিটিভ

 

ছাত্র

লেখক - মনসুর আলি 


    সুশান্তকে ওর মা বলল, ‘লেখাপড়া হবে রে তোর দ্বারা? সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। মাস্টারমশাইয়ের কাজ করেছিস? তা তো করিসনি। ওই ঘুড়ি আর লাটাই তোর জীবন উজ্জ্বল করবে হ্যাঁরে? আজ মাস্টারমশাই আসুক, বলছি ভালো করে যেন একটু আচ্ছা করে ধোলাই দেয়।’

    সুশান্তর বাবা অফিস থেকে ফিরে স্ত্রীর চেঁচামেচি শুনতে পেলেন। ছেলেকে তনু বকছে। এরকম তো রোজই বকে। অমিতবাবু ব্যাগটা রেখে পাশের ঘরে চলে গেলেন চেঞ্জ করতে। অল্পক্ষণ পর জগদীশবাবু এলেন। 

     তাঁর কাছে ছেলের নালিশের একবিন্দু অবশিষ্ট রাখল না তনু। মাস্টারমশাই জগদীশ বসু বললেন, ‘বউদি আপনি যান। আমি দেখছি। আজ একটা খুব ভালো চিকিৎসা করব।’

    ‘হ্যাঁ, আচ্ছা করে দিন ওকে। লেখাপড়া ওর হবে না আমরা বুঝে গেছি,’ গজগজ করতে করতে তনু কিচেনে চলে গেল মাস্টারমশাইয়ের টিফিন তৈরি করতে।

    জগদীশবাবু তনুকে ডাকলেন। তনুদেবী এলে বললেন, ‘বউদি আপনি যান। আমি দরজা বন্ধ করব। আধঘন্টা কেউ এঘরে আসবেন না।’

    ‘একদম ঠিক আছে। এবার জব্দ হবি। খালি পড়তে ভালো লাগে না, ভালো লাগে না। সামলা এবার। আমি এই চললুম,’ ছেলেকে বলতে-বলতে তিনি বার হয়ে গেলেন।

    জগদীশবাবু খুব ভালো চিকিৎসাটি এইবার শুরু করলেন। সুশান্তকে বললেন, ‘আমি তোকে মারার জন্যে দরজা বন্ধ করিনি। আমি কিছু কথা বলব তোর সাথে। আচ্ছা সুশান্ত তুই পড়িস না কেন?’

    ‘ভালো লাগে স্যার পড়তে।’

    ‘কেন ভালো লাগে না?’

    ‘স্যার, বাবা মা সক্কলে খালি কানের কাছে একটাই কথা বলে— তোর দ্বারা লেখাপড়া হবে না। হবে না যখন তাহলে পড়ে কী হবে।’

    ‘সুশান্ত দরজা খোল। বাবা-মাকে ডাক।’

    অমিতবাবু তনুদেবী এলেন। স্যার বললেন, ‘আপনারা ওকে আর একবারের জন্যও বলবেন না তোর দ্বারা লেখাপড়া হবে না কথাটা। ওর দ্বারা যদি হবে না তাহলে হিস্ট্রিতে ও সিক্সটি পার্সেন্ট কিকরে পেল? ড্রয়িং এ এইটি পার্সেন্ট আর জিওগ্রাফিতে সেভেন্টি ফাইভ। আপনারা এই কথাটা বলে ওর এনার্জি একটু একটু করে কমিয়ে ফেলছেন। আশা করি এটি ব্যাখ্যা করতে লাগবে না আপনাদের কাছে। তবুও বলি, মানুষের শরীর কাজ করে। খাদ্য সেই শক্তি যোগায়। শক্তির উৎস কেবল খাদ্য নয়। আর একটি উৎস আছে। তা হল মন। মন দুর্বল হলে শরীর ব্রেইন এরা ঠিকমতো ফাংশন দিতে পারে না। তাই আমার একটা কথা, আজ থেকে আর কোনওদিন ওকে ‘তোর দ্বারা হবে না’ কথাটা আপনারা বলবেন না, কেমন?’

    এটা আজ থেকে বারো বছর আগের কথা। এখন দুপুর ১২টা। সুশান্ত ওর অধীনস্থ একদল ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসি রুমে মিটিং করছে। ও ওর স্টাফেদের একটাই মেসেজ দিয়ে থাকে— বি পজিটিভ। 


বার্তা - বাচ্চাদের কখনও তুই পারবি না, তোর দ্বারা হবে না এই ধরনের কথা বলা ঠিক নয়। পরিবর্তে তাদেরকে উৎসাহ দিতে হবে। 


চিত্র সৌজন্য - Pixabay


এই ধরনের আরও গল্প পড়ুন -

গল্প : কথার যাদু

https://www.golpochura.com/2025/12/blog-post_11.html

গল্প : লোকে কী ভাববে 

https://www.golpochura.com/2025/11/blog-post_16.html

গল্প : দরকার ডিসিপ্লিন 

https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_15.html

Comments

Popular posts from this blog

মোবাইলে মুশকিল

অধ্যবসায়