লোকে কী ভাববে
মতিন ইদানীং একটা ভীষণ সমস্যায় ভুগছে। যে কাজই করতে চাইছে, আগে থেকে একটা চিন্তা মাথায় চলে আসছে— লোকে কী ভাববে। ওর বাবা ওকে বলে বলে হয়রান যে, লোকে কিছুই ভাবে না। তা সত্ত্বেও সে এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারছে না— লোকে কী ভাববে।
এবার ওর বাবা এক মনোবিদের কাছে ওকে নিয়ে গেলেন। সাইকিয়াট্রিস্ট আর কেউ না। পাশের বাড়িত অনিক চক্রবর্তী। সে সাইকোলজি নিয়ে পড়ে এখন একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চাকরিরত।
ঘরের মানুষের কথায় কাজ হল না। এবার দেখা যাক বাইরের লোকের কথায় কাজ হয় কি না। মানুষ যাকে খুব কাছ থেকে পায় তাকে গুরুত্ব দেয় না।
অনিকের বাড়ি যেতে অনিকের মা চা দিয়ে মতিন আর ওর বাবাকে আপ্যায়ন করলেন। এবার অনিকের স্টাডিরুমে বসে চিকিৎসা শুরু হল। প্রথমেই অনিক বলল, “আমি একটা জিনিসই বলব। সেটা যদি মতিন তুমি বিশ্বাস করতে পারো তাহলে তোমার রোগ নিমেষে সেরে যাব। সেটা হল, লোকে ভাবে। অবশ্যই ভাবে। তবে এক বা দু সেকেন্ডের জন্য। আর তুমি ভাবো এক বা দু ঘন্টার জন্য অথবা কখনও কখনও এক বা দু দিন, আবার কখনও এক বা দু সপ্তাহ বা এক বা কয়েক বছরের জন্য।
মনে করো তুমি মাথায় করে এক ঝুড়ি তোমাদের গাছের পেয়ারা নিয়ে সকালবেলায় হাটে চলেছ। তোমার মনে হতেই পারে, আমি এম এ পাস ছেলে। এভাবে মাথায় করে ফলের ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছি, লোকে দেখে কী ভাববে। আমি মতিন, ভাববে। তবে সবাই নয়৷ দু-একজন ভাববে। তবে তারা ভাববে কয়েক মুহূর্তের জন্যে। তাদের অত সময় নেই এই ব্যস্ত জীবনে তোমার কথা নিয়ে পড়ে থাকার জন্যে। তারা এক বা দুই বা তিন সেকেন্ড কিছু একটা ভেবে ছেড়ে দেবে। সে ভাবনা ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। তারপর আর তারা তোমার কথা মনে করবে না।
মতিন তুমি যখন অন্যদের নিয়ে ভাবো এরকম হয় না? তুমি কি তাদের কথা ঘন্টার পর ঘন্টা ভেবেছ কখনও? না। দুই এক পলকের জন্য ভেবেছ। তারপর মন থেকে ঝেড়ে ফেলেছ।”
এই অবধি বলার পর মতিন যেন লাফিয়ে উঠল, “অনিকদা, আমি আর ভাবব না কে কী ভাবল। একদম সিওর৷ একটুও ভাবব না। আমি আমার কাজ করব। আমার পথ ধরে সোজা চলব।”
মতিনের বাবার মুখে স্মিত হাসির রেখা।
অনিক বলল, “এটাই তো চাই।”
সেই থেকে মতিনের আর ওই সমস্যা হয়নি— লোকে কী ভাববে।
বার্তা - লোকে তেমন ভাবে না। আমরাই ভাবি। তাই লোকে কী ভাববে এই চিন্তা ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ করে যেতে হবে।
Image Source : Pixabay
আরও পড়ুন -
গল্প: সফলতার নীতি
https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_21.html
গল্প: দরকার ডিসিপ্লিন

প্রিয় পাঠক, লেখাটি কেমন লাগল জানাবেন...
ReplyDelete