কিছু কথা, কিছু ব্যথা
সবুজ চুড়িদার পরে একটি মেয়ে উঠল।
মলয়ের টনক নড়ে গেল। আরে, এ যে পাপিয়া! এখনও সেইরকম তন্বী, সুন্দরী হয়ে আছে। কে বলবে একত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেছে।
মলয়কে দেখে হাসল পাপিয়া। মলয় বলল, “কেমন আছ?”
পাপিয়া বলল, “ভালো থাকি কী করে? তোমার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সেই দিন থেকে আমার কপালে আগুন ধরে গেল। যাকগে, সে তো তুমি ইচ্ছে করে করোনি। তোমার বাবাই এর পেছনে ছিলেন। আমরা তোমাদের মতো তো উচ্চবিত্ত ঘরের লোক নই, তাই আমি মেনে নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ইচ্ছে করলে তোমার বাবার সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দিতে পারতাম। শুধু একটা ভালো মেয়ের কথা চিন্তা করে তোমাদের পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। ওই অপরূপাই একদিন আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম ওকে এতদিন পর একটা গিফট দেবার সুযোগ এসেছে। আর সেই গিফটটা ছিলে তুমি। আমি তোমাকে ওর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলাম।”
“তোমার স্বামী কী করে?” মলয় বলে।
“প্রাইমারি টিচার। সুখে দুখে দিন চলে যায়। মন্দ নেই। শুধু একটা ক্ষত মনের মধ্যে। আর কিছু না। যাক সে কথা, এই নাও দুটো ক্যাডবেরি কিনেছি ছেলের জন্যে, একটা তুমি নাও। তোমার মেয়েকে দিও। আমি এইবার নাবব। আমার কথায় কষ্ট পেও না মলয় প্লিজ। আবার দেখা হবে,” পাপিয়া নেমে গেল। ভাড়া দিয়ে পিছন দিকে চলে গেল।
মলয় ভাবে, আজ পাপিয়ার সাথে সাক্ষাতের কথা প্রিয়াঙ্কাকে জানালে কেমন হয়? প্রিয়াঙ্কা তো পাপিয়াকে ভালোমতোই চেনে, জানে। তারপর ভাবে, নাঃ। আদৌ ঠিক কাজ হবে না। জানালে হয়ত একটু হালকা হওয়া যেত। যাকগে, ব্যথা বুকে নিয়েই নাহয় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে। কিছু কথা, কিছু ব্যথা সারাটা জীবন কেবল বুকে চেপে রেখে পথ হাঁটতে হয়। একথা তো মলয় জানেই।
বার্তা - কিছু কথা সারাজীবন মনের কোণে সংগোপনে রেখে দিতে হয়।
Image Source : Pixabay
আরও পড়ুন -
গল্প: আঁখিতে প্রেম

পাঠকবন্ধু, গল্পটি কেমন লাগল জানাবেন...
ReplyDelete