Posts

Showing posts from November, 2025

লোকে কী ভাববে

Image
    মতিন ইদানীং একটা ভীষণ সমস্যায় ভুগছে। যে কাজই করতে চাইছে, আগে থেকে একটা চিন্তা মাথায় চলে আসছে— লোকে কী ভাববে। ওর বাবা ওকে বলে বলে হয়রান যে, লোকে কিছুই ভাবে না। তা সত্ত্বেও সে এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারছে না— লোকে কী ভাববে।     এবার ওর বাবা এক মনোবিদের কাছে ওকে নিয়ে গেলেন। সাইকিয়াট্রিস্ট আর কেউ না। পাশের বাড়িত অনিক চক্রবর্তী। সে সাইকোলজি নিয়ে পড়ে এখন একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চাকরিরত।     ঘরের মানুষের কথায় কাজ হল না। এবার দেখা যাক বাইরের লোকের কথায় কাজ হয় কি না। মানুষ যাকে খুব কাছ থেকে পায় তাকে গুরুত্ব দেয় না।     অনিকের বাড়ি যেতে অনিকের মা চা দিয়ে মতিন আর ওর বাবাকে আপ্যায়ন করলেন। এবার অনিকের স্টাডিরুমে বসে চিকিৎসা শুরু হল। প্রথমেই অনিক বলল, “আমি একটা জিনিসই বলব। সেটা যদি মতিন তুমি বিশ্বাস করতে পারো তাহলে তোমার রোগ নিমেষে সেরে যাব। সেটা হল, লোকে ভাবে। অবশ্যই ভাবে। তবে এক বা দু সেকেন্ডের জন্য। আর তুমি ভাবো এক বা দু ঘন্টার জন্য অথবা কখনও কখনও এক বা দু দিন, আবার কখনও এক বা দু সপ্তাহ বা এক বা কয়েক বছরের জন্য।      মনে করো তুমি ম...

কিছু কথা, কিছু ব্যথা

Image
    মলয় আজকে অফিসে যাবার জন্য অটোতে উঠল। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার রেলস্টেশন। অটোয় উঠে চুপটি করে বসল। কিছুটা গিয়ে প্যাসেঞ্জার নেবে বলে অটো থামল।     সবুজ চুড়িদার পরে একটি মেয়ে উঠল।      মলয়ের টনক নড়ে গেল। আরে, এ যে পাপিয়া! এখনও সেইরকম তন্বী, সুন্দরী হয়ে আছে। কে বলবে একত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেছে।      মলয়কে দেখে হাসল পাপিয়া। মলয় বলল, “কেমন আছ?”     পাপিয়া বলল, “ভালো থাকি কী করে? তোমার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সেই দিন থেকে আমার কপালে আগুন ধরে গেল। যাকগে, সে তো তুমি ইচ্ছে করে করোনি। তোমার বাবাই এর পেছনে ছিলেন। আমরা তোমাদের মতো তো উচ্চবিত্ত ঘরের লোক নই, তাই আমি মেনে নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ইচ্ছে করলে তোমার বাবার সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দিতে পারতাম। শুধু একটা ভালো মেয়ের কথা চিন্তা করে তোমাদের পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। ওই অপরূপাই একদিন আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম ওকে এতদিন পর একটা গিফট দেবার সুযোগ এসেছে। আর সেই গিফটটা ছিলে তুমি। আমি তোমাকে ওর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলাম।”     “তোমার স্বামী কী করে?” মলয় বলে।...

অমনোযোগী ছাত্র

Image
    কমল মাস্টারমশাইকে বলল, “আমি পড়ায় মন বসাতে পারছি না। পড়ার সময় রাজ্যের চিন্তা মাথায় চলে আসছে। রেজাল্ট ভালো করতে পারব না বোধহয়... ”     ওর মা পাশে কিচেনে রান্না করছিল। বলল, “হ্যাঁরে সবে ক্লাস সেভেন। এর মধ্যে এরকম মানসিক সমস্যা দেখা হলে পরবর্তীকালে লেখাপড়ায় এগোবি কী করে? স্যার আপনি বুঝুন কী করবেন। ওকে যে ডাক্তার দেখাতে হবে মনে হয়।”     মাস্টারমশাই বললেন, “বউদি, আপনার কোনও চিন্তা নেই। ডাক্তারের কাছে যেতে লাগবে না। আমি ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।” তারপর কমলের দিকে চেয়ে মাস্টারমশাই বললেন, “আচ্ছা কমল, তুই আমায় শুধু বল কীসের কীসের চিন্তা এসে তোর মাথায় ঢোকে তুই যখন পড়তে বসিস?”      কমল বলল, “স্কুলে কী কী হয়েছে, খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে কী হয়েছে, কে কী বলেছে, কেন বলেছে এইসব নানান জিনিস স্যার।”     মাস্টারমশাই বললেন, “আমি তোকে একটা ফর্মুলা বলে দেব। সেই একটা ফর্মুলাতেই তোর এই রোগ একেবারে দূর হয়ে যাবে। শুনবি?”     কমল বলল, “শুনব না মানে স্যার? আপনি আগে বলুন। খুব শুনব। আমার যা সমস্যা হচ্ছে ইদানীং!”     মাস্টারমশাই বললেন, “এখন থেকে ত...