খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ২
লেখক - মনসুর আলি
জটলার কাছে গিয়ে মিমি একজন লোককে বলল, “দাদা, এখানে এত লোক কেন? কী হয়েছে?”
লোকটি জবাব দিল, “ওই যে ছেলেটা দেখছেন ও একটা পাগল। একটা বাইক এসে ওর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। ঘেন্নায় ওর কাছে যাচ্ছে না।”
ছেলেটা শুধু “ও মাগো, বাবা গো” করে চিৎকার করে পা-টা ধরে কেঁদে যাচ্ছে।
মিমি শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করল, “উফ! কী আশ্চর্য! এত লোক, কেউ এগিয়ে আসছে না? মানুষ এখানে আছে কেউ? আমার তো মনে হচ্ছে না।”
তারপর সামনের লোকগুলোকে ঠেলে ভিড়ের মাঝখানে ঢোকার চেষ্টা করতে লাগল মিমি। মুখে শুধু বলতে লাগল, “এই যে সরুন তো দেখি। সরুন সরুন। চলুন দেখি। সাইড দিন। এত মানুষ। কেউ আসছে না। কী আছে ঘেন্নার। ছেলেটার গায়ে ময়লা পোশাক। এছাড়া আর কী আছে ওর গায়ে। কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।”
তারপর রিকশাওয়ালাকে ডাকল, “কাকা, এসো তো। ধরো ছেলেটাকে। রিকশায় তুলি। হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে।”
মিমি রিকশাওয়ালাকে বলল, “রিকশার চেন কেটে গেছে। চলবে না। চালাতে হবে না। টেনে নিয়ে চলো কাকা।”
রিকশাওয়ালা মিমির কাণ্ড দেখে যারপরনাই অবাক না হয়ে পারছে না। ছেলেটাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্লাস্টার করালো ওর পায়ে। নার্স একটা ইনজেকশন দিল। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। সুদর্শন ছেলে। কী করে পাগল হল এ ছেলে! মিমির মনে কত কী চিন্তা আসতে লাগল। কোনো মেয়ে চক্করে পড়েছিল, নাকি অন্য কোনো কেস? মিমি ভাবতে থাকে।
ছেলেটাকে নিয়ে ফিরছে মিমি ওই একই রিকশায়। কিন্তু একে ছেড়ে আসবে কোথায়? ছেলেটা থাকেই বা কোথায়?
ওই রাস্তায় রেখে আসবে, যেখান থেকে ওকে তুলে এনেছিল? না। এ হতে পারে না। চিন্তা করতে লাগল মিমি।
রিকশাওয়ালার থেকে এর সমাধান চাওয়া বোকামি হবে। কারণ ওই লোকই জায়গাটাতে যেতে বারণ করেছিল। তবুও ওঁকে একবার জিজ্ঞাসা করল মিমি, “কাকাজি, একে কোথায় ছাড়া যায় বলো তো?”
রিকশাওয়ালা বলল, “কী করে বলি বলো তো মা? ওর ঘরবাড়ি কোথায় কিচ্ছু তো জানা নেই আমাদের। তুমি ভেবি দ্যাখো...”
একটা প্ল্যান এল মিমির মাথায়। দারুণ প্ল্যান। ও মনে-মনে ঠিক করল, “চলো এটাই করা যাক...”
আগামী পর্ব - কাল রাত ১২:৩০ মিনিটে

পাঠক, কেমন লাগছে জানাবেন...
ReplyDelete